এ,এস.এম জুলফিকুর রহমান সরিষাবাড়ী (জামালপুর ) সংবাদদাতাঃ
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের প্রথম চেয়ারম্যান ড. গাজী
হাসান কামাল গত মঙ্গলবার সাড়ে ৩ টায় সরিষাবাড়ী উপজেলার আর.এন.সি উচ্চ বিদ্যালয়ে একাদশ শ্রেণিতে পাঠদান অতিরিক্ত শ্রেণি শাখা খোলার অনুমতি প্রদানে
আকস্মিক পরিদর্শন করেন।বিদ্যালয় সুত্রে জানা যায়, উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী আর.এন.সি উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রত্যন্ত এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে অতি সুনামের সহিত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৮ শতাধিক । বিদ্যালয়টির দক্ষিণে ৩০ কি.মি. পশ্চিমে ৪০ কি.মি. পূর্বে ১৪ কি.মি. এবং উত্তরে ২২ কি.মি,এর মধ্যে কোন কলেজ না থাকায় প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ছেলেমেয়েরা উচ্চ শিক্ষা লাভ হতে বঞ্চিত হচ্ছে । তাই এলাকার সাধারণ জনগনের সুবিধার্থে আর.এনসি উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ বিদ্যালয়টিতে একাদশ শ্রেণি খোলার জন্য বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন । আবেদনের প্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে তিন টায় ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. গাজী হাসান কামাল আকস্মিক পরিদর্শন আসেন। পরিদর্শন শেষে তিনি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো, প্রাকৃতিক পরিবেশ , শিক্ষার্থীর সংখ্যা , শিক্ষক মন্ডলী ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সহযোগিতায় একটি চমৎকার পরিবেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, সর্বপরি পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল ও সহপাঠ কার্যক্রমিক কার্যকলাপ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি এত্র এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য অভিমত প্রকাশ করেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব এ,এস,এম জুলফিকুর রহমান বলেন, উপজেলার পশ্চিমে, বিশাল চর এলাকায় কোন উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে কলেজ না থাকায় এ ডিজিটাল যুগে দরিদ্র জন গোষ্ঠীর ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া হতে অনেক পিছিয়ে যাচ্ছে । বিশেষ করে মেয়েদের অবস্থা আরো লাজুক । তাই আমরা এলাকার জন সাধারণের স্বার্থে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের প্রচেষ্টায় অত্র বিদ্যালয়ে একাদশ শ্রেণি খোলার জন্য আমরা জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছি। যদিও এ কার্যক্রম ৩/৪ বছর আগে হতে হাতে নেয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী শ্যামলী আক্তার জানান, বাংলাদেশে এখন গ্রেডিং পদ্ধতিতে বিভিন্ন কলেজ গুলিতে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা হচ্ছে । আমরা গ্রামের ছেলে মেয়েরা নামী-দামী কলেজ গুলিতে ভর্তি হতে পারছি না । পারলেও বড় কষ্টসাধ্য । দুই এক সে সুযোগ পেলেও অর্থাভাবে শেষ মূহুর্তে আর টিকে উঠে না । তাই আমাদের এ বিদ্যালয়টিতে একাদশ শ্রেণি খোলা হলে কিছুটা হলেও আমাদের এলাকার ছেলেমেয়েরা উপকৃত হবে। ছাত্র অভিভাবক আঃ ছাত্তার জানান, চেয়ারম্যান মহোদয়ের কাছে আমাদের বিনিত অনুরোধ তিনি যেনো আমাদের চর অঞ্চলের দরিদ্র মানুষের কথা চিন্তা করে অচিরে আমাদের বিদ্যালয়টিতে একাদশ শ্রেণি খোলার অনুমতি প্রদানের ব্যবস্থা করেন। সাতপোয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু তাহের বলেন, আমার ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে নামী দামী এবং ঐতিহ্যবাহী এই স্কুলটি। স্কুলটিতে লেখাপড়া, সহপাঠক্রমিক কার্যক্রম, নাটক নাচ গান সব বিষয়েই পারদর্শিতার দাবী রাখে। আমি এ বিদ্যালয়টিতে অনতিবিলম্বে একাদশ শ্রেণি খোলার অনুমতি দেয়ার জন্য বোর্ড চেয়ারম্যান মহোদয়ের নিকট দাবী রাখছি।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/০৯ জানুয়ারি ২০১৯/ইকবাল